রাষ্ট্রসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আরো কিছু বলা দরকার৷ না হলে এই গ্রন্থের পূর্ণতা আসবে না৷
এবার আসি আমাদের বিশ্বাসটা আরো আরো গভীর হবার জন্য কিছু প্রমাণের দিকে৷ যেগুলি আমি আগেই বলেছিলাম, অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের সমর্থন ও রাষ্ট্রসংঘের থেকে আশীর্বাদ৷ এছাড়া আমাদের রাজ্যের মন্ত্রী, সেই সাথে আবার কলকাতা মেয়র সাহেব ফিরহাদ হাকিম-এর পত্র৷ আছে অজস্র বিশিষ্টজনের পত্র৷ কেউ বিজ্ঞানী, কেউ লেখক, এম-এম-আই-সি র দেবাশীস কুমার, কেউ ভারতের সেরা কোম্পানির জি-এম, অধ্যাপক, শিক্ষক, সমাজসেবী থেকে ভিখারী৷ আরো অনেকে পত্র পাঠাচ্ছেন৷ সবই আমাদের শুভেচ্ছা দিয়ে প্রতিটি পত্র গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ তাঁরা নাগরিক মন থেকে ভেবেছেন, আর যে যাঁর পদমর্যাদা থেকে শুভেচ্ছপত্র পাঠিয়েছেন৷ কিন্তু নানা নিয়মে সব চিঠি প্রকাশ করা গেলো না৷ কিন্তু জানিয়ে দিলাম তাঁদের সহযোগিতার কথা৷ এটাই আসল৷ এখানে যেগুলি প্রকাশ করলাম, তার বাইরের পত্রগুলি আমরা আবার সময়ানুপাতিক নিয়মে কোথাও না কোথাও প্রকাশ করব৷ যতখানি সম্ভব৷
এদিকে একটি চমৎকার খবর হল, ২০১৯ জুলাইয়ের শেষের দিকে অ্যাডভাইজর ঋদেনদিক যখন আমার কলকাতার অফিসে এই প্রজেক্ট নিয়ে আরো আরো অনেক ভাবনা ও লেখালেখি করছিলেন। তার আগে ২০ জুলাই সোমলতাকে দিয়ে মিউজিক ডাইরেক্টর ইন্দ্রজিত দে, তপন কুমার মাইতির লেখা ‘পৃথিবী ও পৃথিবী, নাওগো আমার প্রণাম’ এবং ঋতুপর্ণা রায়চৌধুরি অনুবাদিত ইংরেজী গান ‘মাদার আর্থ ও মাদার আর্থ’ স্টুডিওতে রেকর্ডিং করানোর পর আমি ও ঋদেনদিক খুব তৃপ্তির সাথে স্টুডিও থেকে ফাইন্ডেশনের অফিসে এলাম৷ এসে আবার কাজে বসেছি৷ পরের দিন পেলাম হিজ হোলিনেশ দলাই লামার থেকে চিঠি৷
১৯৮৯ সালে তিব্বতের এই মহান শান্তির দূত নোবেল পুরস্কার লাভ করেন৷ পৃথিবীর প্রায় ষাটটিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার সম্মান লাভ করেছেন তিনি৷ এটি তথ্য হিসেবে দিলাম, কেউ এটাকে অন্য কিছু ভেবে বসবেন না আবার৷
তিনি যখন আমাদের এই চিন্তা ও কাজের সব পদ্ধতিকে সমর্থন করলেন ও এটিকে বিশ্বমানব জগৎকে এক করার যোগ্য আন্তর্জাতিক শান্তির সংস্থা বলে মানলেন, তখন আমরা অভিভূত৷ আমিও অ্যাডভাইজর এই সফলতা নিয়ে একে অপরকে সেলিব্রেট করলাম৷
এবার সেইসব কয়েকটি ইংরেজি শুভেচ্ছাপত্রের বাংলা অনুবাদ দিলাম৷
২০১৬ তে ৩১শে অক্টোবর-এ প্রমোশনাল-এর জন্য অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের সমর্থন পত্র৷ প্রমোশনাল মানে অগ্রিম কিছু জানানোর জন্য অনুষ্ঠান, সেটা সবাই জানেন৷ ওই অনুষ্ঠানে আমরা এই ভাবনার কথা জানিয়ে অনুষ্ঠান করি৷ তার পর এলো ওই দুই দেশের শুভেচ্ছা পত্র৷
পরে ২০১৭ তে ১৫ই জানুয়ারি যখন আমি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব-মেদিনীপুরের নাটশালে প্রথম ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’ পালন করি তখনো তাঁরা আবার শুভেচ্ছা পত্র দেন ও তারপর রাষ্ট্রসংঘের থেকে আসা ২০১৯ এ জানুয়ারি পত্রটি এখানে অনুবাদ করছি৷ বাকি গুলির কিছু আইনত অসুবিধে আছে এখানে, তাই দেওয়া গেল না৷
প্রতি, ২৬ অক্টোবর ২০১৬
তরুন,
ধন্যবাদ, তুমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল, এম-পি, কে আমন্ত্রণ জানিয়েছো তোমার ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’-এর উদ্দেশ্যের অনুষ্ঠানে৷
দূর্ভাগ্যবশত, উনি অন্য অনুষ্ঠানে আগে থেকেই আমন্ত্রিত৷
কিন্তু, তিনি তোমাকে তাঁর শুভেচ্ছা ও আস্থা পাঠাচ্ছেন, তোমার কাজের সফলতা চেয়ে৷
প্রেরকঃ
প্রধানমন্ত্রী অফিস,
পার্লামেন্ট হাউস৷
ক্যানবেরা অস্ট্রেলিয়া
এবারের চিঠিটি ১৫-ই জানুয়ারি ২০১৭ সালের জন্য৷
প্রতি,
তরুন,
ধন্যবাদ, তুমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল, এম-পি, কে আমন্ত্রণ জানিয়েছো তোমার ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’ এ নাটশাল হাইস্কুল ময়দান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতে৷
দুর্ভাগ্যবশত, উনি অন্য অনুষ্ঠানে আগে থেকেই আমন্ত্রিত৷
কিন্তু, তিনি তোমাকে তাঁর শুভেচ্ছা ও আস্থা পাঠাচ্ছেন, তোমার কাজের সফলতা চেয়ে৷
প্রেরকঃ
এলিজাবেথ নেইলসন
প্রধানমন্ত্রী অফিস,
২১শে অক্টোবর ২০১৬
পার্লামেন্ট হাউস৷
ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া
এবারে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দুটি চিঠি৷
প্রিয়
মিষ্টার তরুন,
সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন কী-এর থেকে তোমাকে জানানো হচ্ছে যে, তোমার পাঠানো ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’-এর উদ্দেশ্যে যে আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছ, যেটা রেড রোজ ফাংসন সেন্টার, সিডনিতে হচ্ছে৷
কিন্তু, প্রচুর কাজের চাপে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না৷ তিনি আমাকে বলেছেন যেন আমি তোমাকে শুভেচ্ছা পাঠাই৷
ইতি
তোমার
সুসান টমলিনসন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজিকিউটিভ সহকারী
একইভাবে ২০১৭ এর জন্যও উনি শুভেচ্ছা পত্র পাঠালেন৷
রাষ্ট্রসংঘের পুরো পত্রটি কিছু অনিবার্য কারণে এখানে প্রকাশ করা গেল না৷
ওখান থেকে পত্রটি লেখা হয়, ১৬ই জানুয়ারি ২০১৯ তে৷ আমাদের ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’-এর ৩য় বর্ষের অনুষ্ঠানের পরদিন লেখা৷ যাইহোক, মূল কথা তাঁরা আমাদের পত্র পড়েছেন, প্রথম দুবছর আমরা আমন্ত্রন পাঠালেও আমাদের প্রতি তাঁদের আস্থা এসেছে যখন তা একটু দেরীতে হলেও, তাঁরা আমাদের প্রতি সেই আস্থা প্রকাশ করেছেন৷ তখন আমাদের এই বিষয়ে শুরুর সময়, আর ওয়ার্ল্ড এ্যানথেম তখনও বেরোয় নি৷
আমাদের পত্রে উল্লেখ ছিল, ‘স্থায়ী বিশ্ব শান্তির সূত্র’, ‘পৃথিবী ও কলা বিপ্লব দিবস’-এর নামকরণের কারণ, আমাদের তৈরি বিশ্ব সংগীত ‘উই আর দ্য সিটিজেন অব দি আর্থ’-এর উদ্দেশ্য ও প্রতিলিপি, আমাদের থেকে দেওয়া বাৎসরিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলি ও অন্য দিকগুলি সহ একটা মোটামুটি পরিপূর্ণ প্রকাশ৷ সাথে অনুষ্ঠানের কিছু ছবি৷
তাঁরা আমাদের প্রতি এক দীর্ঘ পত্র দেন৷ যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই যে, আমাদের পত্র পড়েছেন, ও এর বিষয়গুলি তাঁরা লিপিবদ্ধ করেছেন৷ তাঁরা আমাদের আরো জানিয়েছেন যে, পদ্ধতিগত নিয়মে তাঁরা এগোবেন, কিন্তু, এরপর আমাদের বাকি বিষয়গুলি উপযুক্তভাবে পাঠাতে হবে৷ মহামান্য সেক্রেটারি জেনারেল-এর কথাতেই তাঁরা ওই পত্র আমাদের পাঠাচ্ছেন৷
আমরা এই পত্র দেখে আরো স্বপ্নে ও আবেগে আহ্লাদিত হলাম৷ ওটার আর সরাসরি অনুবাদ দিলাম না, বিষয়টা বলে দিলাম৷
কানাডা সরকার থেকেও এলো, ২০১৯-এ শেষের দিকে৷
প্রতি,
মাইকেল তরুন,
আর্ট মাদার আর্থ ফাউন্ডেশন,
কলকাতা,
ভারত,
প্রিয়,
মিঃ তরুন,
আমি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এর তরফ থেকে আপনাদের আর্ট মাদার আর্থ ফাউন্ডেশন-এর থেকে প্রাপ্ত ‘আর্থ এ্যান্ড আর্ট রিভলিউশন ডে’ বিষয়টি নিয়ে অবগত হলাম৷ প্রধানমন্ত্রী মহাশয়কে আপনি এই বিষয়টি জানিয়েছেন, তাই ধন্যবাদ দিচ্ছি৷ সত্যি আপনাদের এই বিষয়টা কত কষ্ট করে গুছিয়ে পাঠিয়েছেন, ভাবা যায় না৷ আমার তরফ থেকে অনেক ধন্যবাদ রইলো এই উদ্যোগের জন্য৷
আবারও আপনাকে ধন্যবাদ সময় নিয়ে লেখার জন্য।
আপনার,
এম. ব্লেডিসন
একজিকিউটিভ করেসপন্ডেন্স অফিসার৷
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, কানাডা, তাং---১৭-ই অক্টোবর ২০১৯
এবার আর একটি চিঠি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে চিঠির আগেই এসেছিলো৷ সেটা দিয়েই এই অধ্যায় শেষ করছি৷
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী তিব্বতের হিজ হোলিনেশ দলাই লামার থেকে আসা পত্রটির অনুবাদ৷
প্রেরকঃ--- গাওয়াং শোনম
তারিখঃ--- ৪ঠা জুলাই ২০১৯৷
প্রতি, মাইকেল তরুন,
আমরা আপনার থেকে পাঠানো বিষয়টি পেয়েছি৷ বিশ্ব নিয়ে আপনার ভাবনা ও কর্মকে আমরা সমর্থন করছি৷
মহামান্য দালাই লামা বিশ্বাস করেন যে, শান্তি জিনিসটা আগে নিজের ভিতর তৈরি হয়---যেটার উৎপত্তি হয় অপরের প্রতি উপলব্ধি ও ভালোবাসার শিক্ষা থেকে৷
তিনি আরো বিশ্বাস করেন, ধর্ম নিরপেক্ষতাই শান্তি আনতে পারে৷ আর মানুষ সেটা পেতে পারে, কোনো কিছুর ধর্মের নিয়মে ব্যাখ্যা না করে সাধারণ বুদ্ধি, সাধারণ অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞান ভিত্তিক ভাবনা দিয়ে৷
অন্তরের শিক্ষার ভিতর দিয়েই মানব সমাজ বদলাবে৷ উপলব্ধি ও ভালোবাসা তৈরির শিক্ষা কিন্ডারগার্টেন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে, আর তার ফলে কাজটা সঠিক হবে, এই নিয়ে তিনি আপনাকে উৎসাহিত করছেন৷
আপনাকে তিনি বলতে চান যে, পৃথিবীতে আমরা মানুষ সবাই একজাতি, ---এই বিশ্ববোধকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হোক৷
উষ্ণ শুভেচ্ছান্তে,
জেসি গাওয়াং শোনম
(মহামান্য দলাই লামার অফিস)
এদিকে বলতে বলতে, এখানে-ই আবার বলে নিতে হচ্ছে, রাষ্ট্রসংঘে আমরা পরে পরিণত ভাবে যে প্রোপোজাল-রিকোয়েষ্ট পাঠিয়েছিলাম, তার ফলে আমরা রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে পরের পত্রটি পাই৷ ৪ঠা অক্টোবর, ২০১৯ ওঁরা চিঠিটি লিখেছেন৷ আমরা পরে পেলাম, যেমন হয়৷ ঐ পত্রে জানানো হয়েছে যে, ওঁরা আমাদের বিষয়টি যত্নের সাথে লিপিবদ্ধ করেছেন, ইত্যাদি৷ আমাদের অনুভূতিতে আলাদা তৃপ্তি এলো৷ যাক, অনেক কষ্টের ফলাফল এই ভাবেই আসছে পরপর৷
বুঝতে পারছি আমরা খুব কষ্টের সাথে একটু একটু করে হলেও এগিয়ে চলেছি৷