এবার আমাকে গ্রন্থটি শেষ করতে হবে৷ আর বলতে হবে সেই আসল রোমাঞ্চের বৃত্তান্ত৷
অষ্ট্রেলিয়া থেকে সুকান্তরঞ্জন পাল ওরফে শুভদা বিভিন্ন ইন্টারভিউ নিলেন নানা বিশেষ ব্যক্তির৷
যেমন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা দিওয়ান এইচ এম ইসমাইল, তিসা তাসমিন তানিয়া, তাহির ফারুক সহ আরো অনেকে আমাদের এই কাজের জন্য বিদেশ থেকে ভিডিও শুভেচ্ছা পাঠালেন৷ শুভেচ্ছা পাঠালেন মনিষ জৈন, নিহাররঞ্জন মহাপাত্র৷ ওড়িশার এই নিহারবাবু-ই আমাদের এই ফাউন্ডেশনের কো-ডাইরেক্টর৷ এছাড়া আছেন অনেকেই৷ তাঁদের নাম অন্য স্থানে রয়েছে৷ ব্রাজিল থেকে আলভেস পরিবার অভিনন্দন জানালো৷ অভিনন্দিত করলেন আয়ারল্যান্ড-এর ডাবলিন বিজনেস স্কুলের ছাত্রী অন্বেষা মুখার্জি সহ অনেকেই৷
আমার এই স্বপ্ন এইভাবে মতামতের দ্বারা বিভিন্ন দেশের অনেকেই এগিয়ে দিতে চাইলেন৷ বিভিন্ন কোম্পানির মালিক, কর্মী, গৃহবধু, শিশু বিভিন্ন পেশার মানুষেরা, সকলেই তাঁদের মতামত বিভিন্ন ভাবে জানিয়ে এই বিশ্ব শান্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে দিতে চাইলেন৷ পরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল৷
যে-কথা আবার বলব, ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৮-এ আমাদের তৈরি ওয়ার্ল্ড অ্যানথেম ‘উই আর দ্য সিটিজেন অব দি আর্থ’ রেকর্ডিং হল, কিন্তু আমরা ইন্টারনেটে দিলাম ২৪শে জানুয়ারি ২০১৯৷ ২৩শে জানুয়ারি একটি সিনেমা ও মডেলিং কোম্পানি দিল আমাদের সাথে কথা বলেই৷ কিন্তু, ওই কোম্পানি, ঘটনাক্রমে ওদেরি আর একটি সাইট বদলালো, ফলে ওদের আগের ভিউয়ার মুছে গেল৷ ছিল ‘চঞ্চলাক্ষী এন্টারটেনমেন্ট’, ওদের ওই সাইট থেকে বদলে নিয়ে চলে এল ‘চঞ্চলাক্ষী টিভি’ তে৷ আমিও আবার পরে ইউটিউব চ্যানেল খুললাম ১৫ই জুলাই ২০১৯৷ ওয়ার্ল্ড এ্যানথেমটা ওখানে আমাদের লোগো দিয়ে সেট করলাম, যেটা আগে দরকার ছিল৷ পরে চঞ্চলাক্ষী টিভি থেকেও ওটা সরিয়ে ফেলা হোলো আমার অনুরোধে, কারণ, আমি ওয়ার্ল্ড এ্যানথেমকে আমাদের চ্যানেলে নিয়ে নিলাম৷
যদিও এর ফলে আমাদের অনেক ভিউয়ার নষ্ট হল৷ কোনো আলাদা প্রচার ছাড়াই আমাদের উভয়ের ভিউয়ার নষ্ট হল প্রায় পাঁচ হাজার৷ আবার নতুন করে শুরু হল আমাদের ভিউয়ার এর হিসেব৷
এই সময় একটি ঘটনার কথা বলি, এই ওয়ার্ল্ড অ্যানথেম শুনে নানা বিদেশি প্রশংসা করলেন, আর নিজেদের মতো মতামত দিলেন, দিচ্ছেন৷ যেগুলি আমাদের কাছে আবেগের কারণ তো বটেই৷ যে-দেশে ইংরেজিভাষী নয়, সেখান থেকে ইংরেজিতে বিশ্ব সংগীত লেখা, সুর করা, গাওয়া ও সেটা সাহস নিয়ে বিশ্বের বাজারে প্রকাশ করা, এটা যে কী কঠিন ঝুঁকি সেটা বোঝানো যাবে না৷ আবার সেটা জাতিপুঞ্জকে উৎসর্গ করা হচ্ছে৷ আর সেটা শুনে মানুষ নিজেদের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, সারা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ দিচ্ছেন যে যেমন৷ কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলায় অনেক বিদেশি এই বিশ্ব সংগীত শুনে বলেছিলেন, তুলনা হয় না৷ তখন এটা ইন্টারনেটে যায় নি, ওঁরা শুধু রেকর্ডিং শুনেছিলেন৷ সে সব কথার রেশ পরে অন্য কোথাও আলোচিত হবে৷
এখন এখানে বলে রাখি, ইতালির বিশ্ব বিখ্যাত স্যাক্সোফোন শিল্পী ড্যানিয়েল স্যাক্স আমাদের ওয়ার্ল্ড এ্যানথেমটা ইনটারনেটে ভালো করে শুনে মতামত পাঠালেন আমাকে, ‘নাইস, আই লাইক ইট!’
সত্যি বলতে কী, ওনার এই শব্দ কটি আমি ব্যক্তিগত ভাবে পাবার পরেই নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এমন কাজটা আমরা করতে পেরেছি!
এইসব খুশির ভাবনা ভাবতে ভাবতে, আমরা পাঠিয়ে দিলাম রাষ্ট্রসংঘে, আমাদের প্রোপোজাল-রিকোয়েস্ট৷ সেই মুহূর্তটা কেমন ছিল জানিনা৷ সাথে ছিলেন অ্যাডভাইজর-ইন- চার্জ ঋদেনদিক ও শিল্পী কে-নারায়ণ৷ সেই বিরাট ঝামেলার কাজ, কেমন ছিল, বোঝাতে পারব না৷ কলকাতার জিপিও থেকেই পোষ্ট করছি৷ স্থানীয় একটা পেন-খাতা-খাম-আঠার দোকানদার, তিনি এইসব কাজে সাহায্য করেন সঠিকভাবে৷ এইসব ঝামেলার কাজ করার জন্য, তিনি এসে তাঁর দক্ষ হাত দিয়ে আমাদের সাহায্য করলেন৷ বিনিময়ে তাঁকে একটা ভালো পরিমাণ টাকা দিতে হোলো৷ আসলে এটাই তাঁর পেশা, দোকানের পাশাপাশি৷
আমরা কী এক পরিতৃপ্তির অনুভব নিয়ে বিশ্ব মাতার আশীর্বাদের ওপর সব সমর্পণ করে দিয়ে যে যার বাড়ির দিকে রওনা হলাম৷
আর তারপর আমাদের বাংলা গানগুলি স্টুডিও রেকর্ডিং হল এবং সে গুলিকে পরের ধাপে ইংরেজি অনুবাদ গাওয়ানোর জন্য সব রকমের ব্যবস্থা করতে থাকলাম৷ ইংরেজি ওয়ার্ল্ড অ্যানথেম যেমন সব ভাষাতেই সুর থাকবে, বাংলা গানগুলি তেমন নয়, সুরকারের কথা মতো বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদে এক্ষেত্রে অন্য রকম সুর হলেই ভালো হবে, মানে উপযুক্ত হবে৷ সেই মতো-ই আমরা চিন্তায় ও কাজে ব্যস্ত আছি৷
ঠিক এই সময় ঘটনাক্রমে আমি পরিচিত হই একজন ডিরেক্টরের সঙ্গে৷
কিন্তু, আমি আমার অ্যাডভাইজর-ইন-চার্জ এর থেকে শুনেছিলাম যে, এসব লাইনে ঢুকে কোন কাজ করতে গেলে সুব সাবধানী ও সতর্ক থাকতে হয়৷ কারণ, বিভিন্ন রকমের সুযোগ সন্ধানী লোক, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই, যে কোনো রকমের কর্মক্ষেত্রে ঘুরে বেড়ায়, তাদের খপ্পরে পড়ে গেলেই গেলো!
আমি এইসব নিয়ে এতো বুঝিনা৷ তবে অ্যাডভাইজর-ইন-চার্জ প্রথম পরিচয়ের পর বলেছিলেন যে আমার কাজের ওপরে একটা ডকুমেন্টারি ফিল্ম হওয়া দরকার৷
প্রায় বছরখানেক পরে তেমনি একটা পরিস্থিতি এসে গেল, আর ঘটনাক্রমে সেই ডিরেক্টর মানুষটিকে এই কাজের যোগ্য হিসেবে পেয়ে যাই৷ আপাতত সেটাই মনে হলো৷ বিশেষ খুশির খবর হল, ওই সিনেমাটি ডকুমেন্টারি হবে না, ফিচার হবে৷ আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা তৈরি হবে, যেটা বিদেশে দেখানো হবে৷ আমার ছায়া চরিত্র হবে নায়ক৷ এই নিয়ে আগেও বোধ হয় আলোচনা করেছি, এখানে আবার চলে এলো বিষয়টা৷ আসলে এই বইটা তো প্রচলিত নিয়মের কবিতা-উপন্যাস বা প্রবন্ধের বই নয়৷ এটা অন্যরকম এক মিশ্রিত কাজ ও অনুভূতির আলেখ্য৷ তাই এভাবেই এর প্রকাশ হবে৷
আর একটি কথা, ওই ফিল্ম নিয়ে যেটা নতুনতর খবর এখানে, ডাইরেক্টর-এর কথা মতো সবার কাছে তো বটেই, ওনার নাম অ্যাডভাইজর-ইন-চার্জ এর কাছে-ও গোপন রাখলাম৷ যদিও অ্যাডভাইজর ঋদেনদিক বলেছিলেন, যারা ঠকাবে তারা নানা প্রণালী নেবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য৷ আমি বিষয়টা ভেবেও আমার মতো আমি চললাম৷ তার মানে ঋদেনদিক বলেননি যে, সকলেই খারাপ বা আমি যে-ডিরেক্টর-এর ওপর ওনার হয়তো নীরব একটা আশা বা গভীর বিশ্বাস জন্মেছে এটাও আমার মনে হয়েছিল৷
তবে এ নিয়ে বেশি করে জানবার জন্য উনিও কোনো আলাদা ভাব বা ইচ্ছা প্রকাশ করেন নি৷ আমারও ব্যাপারটা ভালো লাগলো৷ উনি সতর্ক করার জন্য সময় বুঝে অনেককে সংকেত দেন, কিন্তু কারোর ভিতর জোর করে প্রবেশ করেন না৷ আসলে ঋদেনদিক এতো রকম ভাবে ঠকেছেন যে, সেই জ্বালাগুলি উনি বোঝেন৷ কেউ ঘনিষ্ট হলে তাকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন৷ যদিও এই সতর্ক করার স্বভাবের জন্য অনেকেরই সাথেই ওনার ভুল বোঝাবোঝি৷ কারণ, যাদের উনি সতর্ক করেন, তারাই ওঁনাকে ভুল বোঝে, পরে ক্ষতি হবার পরে ওঁনার কাছে এসে হাহুতাস করে৷
আসলে, সেই কথায় ফিরে আসতে হয়, পৃথিবীকে না-ভালোবাসার জন্য সমাজটা কীভাবে বিক্ষিপ্ত ও বিপন্ন, এটাই একরকম প্রমাণ৷
যাইহোক, সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অনেকগুলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাবে৷ সেই মত ডিরেক্টর চিত্রনাট্য করতে শুরু করলেন৷
আমি ও আমরা এভাবেই চলতে শুরু করলাম৷ আর উৎকন্ঠায় চেয়ে রইলাম, রাষ্ট্রসংঘের দিকে৷