আবার আসব যে-কথায়, অনুষ্ঠানের কাহিনি তো শুনলেন, কিন্তু ২০১৭ তে অনুষ্ঠানের অনেকগুলি আকর্ষণ ছিল, তার মধ্যে অনেক কিছু ভালো আছে৷ কারণ অনেকেই তো দক্ষতা নিয়ে এসেছিলেন এই অনুষ্ঠানে৷ আর সব কলাকুশলীদের হাজার-হাজার মানুষ গ্রহণ করেছিলেন৷
প্রথমে অনুষ্ঠান শুরু হল তপন কুমার মাইতির ‘পৃথিবীর জন্মদিনে’ কবিতার সাথে, তারপর মাইকেল জ্যাকশনের ‘আর্থ সঙ’ এর ওপর নৃত্য৷ সবাই কত ভালোভাবে তা গ্রহণ করছেন৷ তা ভাবা যায় না৷ ছিল নানান গানের সাথে নাচ৷ হাজার হাজার লোক নাচছিল নিজের মতো৷ কথাগুলো আগের অধ্যায়ে বললাম এই মাত্র, তাই না৷ কিন্তু এখানেও ছুঁয়ে যেতে হল আবারও কথা প্রসঙ্গে৷
কিন্তু এতো গেল মানুষের মন ও দেহ নাড়ার মতো ব্যাপার৷ কিছু মানুষের মিথ্যা বিশ্বাস বা আলস্যকে নাড়া না দিলে তো বিপ্লব হবে না৷ কারণ, আমার এই অনুষ্ঠান---সময় ভাবনা নিয়ে৷ মানুষ যেমন কাজ করবে তেমন সে ফল পাবে৷ আর এই ইচ্ছাটাকে তার ভিতরে আনতে হবে স্থায়ী ভাবে৷ আমার এই আয়োজন, নিজেকে নিঃশেষ করে এই দিবসকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করার আয়োজন৷
এখাবে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে, পৃথিবীর ওপর মাইকেল জ্যাকসন, ঈশ্বরকুমারের সুদূর প্রসারী ভাবনা ও তা নিয়ে সংগীত আমার ভিতর শ্রদ্ধা জাগিয়ে ছিল তাঁদের প্রতি৷ একইভাবে, পৃথিবীর তিরিশটি ভাষায় ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’ সংগীতটিও বটে৷
এইগুলির মহান স্রষ্টা ও পারফর্মাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমরা ওদের সৃষ্টিগুলিকে এইভাবে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আমাদের শান্তি ভাবনার কাজের মধ্য দিয়ে পৌঁছে দিতে চেয়েছি৷ কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থে নয়৷ কীভাবে পৃথিবীর নানা শিল্পী স্রষ্টাগণ পৃথিবী নিয়ে ভেবেছেন, এইভাবে আমি এই অনুষ্ঠানে সেগুলি কিছু কিছু ব্যবহার করে মানুষের কাছে জানিয়ে দিয়েছি মাত্র৷
এদিকে এই স্থায়ী বিশ্বশান্তির অনুভূতিকে তাড়াতাড়ি সবার ভিতরে প্রবেশ করাতে আমি করেছি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতা৷ তাতে রাখলাম গিফ্ট৷ যারা সঠিক উত্তর দেবে হাজার হাজার লোকের মধ্যে থেকে তাদেরকে মঞ্চ থেকে আমাদের ভলেন্টিয়ার বন্ধু গিয়ে পুরস্কারটা দিয়ে আসবে৷ আসলে ওই গিফ্ট কিছু নয়, একটা মুহুর্তের আনন্দ মাত্র৷ কিন্তু এই ব্যাপারটা সবাইকে মজা দিচ্ছে৷ এটাই ব্যাপার৷
আসলে আমি সবাইকে বোঝাতে চাই যে, পৃথিবীকে ভালো রাখলেই সব থাকবে, না হলে নয়৷
আমরা এত যে স্বপ্ন দেখি, কাজ করি, কথা বলি, এ সব তো পৃথিবী থাকলেই হয়৷ না হলে তো হবে না৷
একটা কথা, আমি শিক্ষাবিদ নই, গবেষক নই তথাকথিত নিয়মে, আমার গবেষণার জন্য কোনো ডিগ্রি নেই, আর পণ্ডিতদের সাথে মেলামেশাও নেই, কিন্তু আমি মিশেছি বিশ্বমাতার সাথে৷ আর এ থেকে আমার যে জ্ঞান এসেছে, তার একটা প্রকরণ আমি আমার প্রশ্ন গুলিতে প্রয়োগ করতে চাইলাম৷
আমি এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতাম বাজারে, গাড়িতে, নৌকাতে, সর্বত্র৷ চালক থেকে যাত্রীরা সব অবাক হয়৷ তারা ভাবতে পারে না যে এমন একটা বিষয় উদ্ভব হতে পারে৷
আর যারাই শোনে সকলে আমাকে এই নিয়ে উৎসাহ দেয়৷ তারা বলল, ‘দাদা, এটা সত্যি একটা আবিষ্কার বটে!’ কেউ বলল, ‘দাদা, এটার কোনো জবাব নেই!’ ইত্যাদি৷
আমি আরো আস্থা পেতে থাকলাম৷ আমি বুঝতে পারলাম, চলমান এই বিশ্বের নানা নিয়মে মানুষ চলছে৷ অনেক কিছুকে ভালোবাসছে, অনেক কিছুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছে৷ কিন্তু তারা একটা যেন কোথায় স্থিরতা চাইছে৷
এর মানে আমার এই চিন্তা একমাত্র সেরা তা নয়৷ আসলে, নানা ভাবে মানুষ ভালো-মন্দ দেখেছে, আর ভালোকে ভালোবেসেছে৷ কিন্তু এবার একটা ফাইন্যালি কিছু সে চায়৷ তার জন্য অপেক্ষাতে ছিল৷ আর সেটা আমার এই আবিষ্কার কিনা জানি না, কিন্তু এটার জন্য মানুষ অজান্তে ওৎ পেতে ছিল৷
আমার পরপর মনে হল, এত শ্রম, এত খরচ করে যা করছি, তা বিফলে যাবে না৷ সব বয়সের, সব ধর্মের, সব কর্মের মানুষেরা আমাকে সমর্থন দিচ্ছে৷ আমার কাছে এটাই তো বড় পাওয়া৷