এবার বলবো, আর একটা দিক, যে-কথা আমি এই গ্রন্থে নানা স্থানে ছুঁয়ে গেছি, কিন্তু এখানে এটা নিয়ে আলাদা একটা অধ্যায় লিখে নিলাম, কারণ, বিষয়টি নিয়ে একটি অধ্যায় না লিখলে সেটা বোঝানো যাবে না৷
আমি আগে বলেছি, আমাদের কাছে মূল বিষয় পৃথিবী৷ কিন্তু এখানে একটা কথা, শুধু এই কথা দিয়ে শুরু ও শেষ হয় না৷
আমি ভেবে দেখলাম, পৃথিবীর মর্যাদা আরো কত ভাবে রক্ষা করা যায়৷ আমি মাথা থেকে বের করলাম, পৃথিবী নিয়ে একটি এমন কিছু করা যাক যেটা মানবজাতির তথা সমগ্র পৃথিবীর সম্পদ হবে৷
ভাবলাম, পৃথিবীমাতার স্ট্যাচু করলে কেমন হয়৷ কারণ, আমরা মহাপুরুষের ও বিদুষীদের এবং বীর-বীরঙ্গনা সহ নানা ধরনের গুণীর স্ট্যাচু তৈরী করি৷ আর তাঁদের নিয়ে দিবস উদযাপন, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও তাঁদের জীবন চর্চা করি৷
কিন্তু তাঁরা যে পৃথিবীতে জন্মেছে, সেই পৃথিবীর তো কোন স্ট্যাচু নেই কোথাও৷ জানি না কোথাও আছে কিনা৷ যদি থাকে তবে সেটা একান্ত শিল্পের জন্য, তার কোনো বৃহৎ আবেদন নিয়ে ভাবা হয়নি৷ যদি হতো, তবে সেটা আমরা জানতাম৷
আমি পৃথিবী মাতার স্ট্যাচু নিয়ে তাই ভাবলাম, যেটা হবে বিশ্ব প্রেম ও বিশ্ব সংরক্ষণের প্রতীক৷
এটি পাঁচটি বার্তা বহন করবে৷
(১) সবার উপরে পৃথিবী সত্য৷
(২) প্রেমেই একমাত্র পথ৷
(৩) আমাদের গর্ব করা উচিত আমরা এই পৃথিবীর অধিবাসী৷ মানে পৃথিবী আমাদের দেশ৷
(৪) মাতৃভূমির সেবা করাই ঈশ্বরের সেবা করা৷ আসলে এখানে ঈশ্বর শব্দটা যে যে-ভাবেই গ্রহণ করুন না কেন! নাস্তিকের কাছে ঈশ্বর যদি শান্তি ও সত্যের প্রতীক হয়, তাহলে পৃথিবীকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা সেই পরমের উপাসক হবো৷
(৫) সকলের উচিত পৃথিবীকে স্যালুট করা৷
এর মানে, আমরা প্রতিদিন যে যার সংস্কৃতির নিয়মে, আমাদের পরম শক্তি বা ঈশ্বরকে উপাসনা করি৷ বাড়িতে, শিক্ষালয়ে বা কর্ম ক্ষেত্রে৷
কিন্তু, ওটা সবাই করুন, তার আগে সকালে যদি একবার পৃথিবীমাতাকে ডাকি, আর এই ভাবেই আমরা দিন শুরু করি, তবে আমরা প্রতিদিন ভাববো যে আমরা পৃথিবীর অধিবাসী৷ ফলে কোনো ভাবেই বাকি দিনটা আমাদের মনে কোনো হিংসা বা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হবে না৷
কথাটা ঠিক কিনা একবার ভেবে দেকুন৷
এবারে এখানে একটা কথা বলি, আমাদের এই সভ্যতায় অনেক ধর্ম আছে৷ কিন্তু সেই ধর্মগুলি যদি একে অপরের সাথে ভুল বোঝাবুঝি করে নানা দুঃখজনক অবস্থা তৈরি করে তখন সেটা ধর্ম থাকে না৷ কিন্তু যাঁরা এক একটি ধর্ম তৈরি করে মানুষকে সুস্থ থাকার বার্তা দিয়েছিলেন, নানা সময়ে নানা যুগে, তাঁরা তো কেউ অশান্তি বা রেষারেষি করার জন্য এতো মেহনত করেন নি৷
অনেকে বলবেন, ধর্ম জিনিসটা একদিন থাকবে না৷ আর কোনো ধর্মগুরু নামও থাকবে না একদিন৷
আমার কথা হল, সেই ভাবে ভাবলে একদিন কিছুই থাকবে না৷ কিন্তু মানব নিয়মে আমরা যে-ভাবে আছি, সেই নিয়মে আমাদের টিকে থাকার ও সুস্থ থাকার প্রণালী নিতে হবে৷ আর সেটার জন্য আমাদের এতো কাজ, ভাবনা, আলোচনা সারা দিন রাত৷ আমি সেই পথেই চলেছি, তাই এই পৃথিবীমাতার স্ট্যাচু নিয়ে এতো ভাবনা৷
কারণ, এটা একটা আন্তর্জাতিক প্রোজেক্ট৷ পূর্ব-মেদিনীপুরের মহিষাদলের নাটশাল গ্রাম যে নদীর পাশে, সেই নদী তীরবর্তী স্থানে রয়েছে দুটি ক্যানাল যার মধ্যবর্তী জায়গাটি প্রায় তিন বর্গ মাইল বিস্তৃত৷ মনোরম এক স্থান। সেখানে একটি স্টেডিয়াম গড়তে চাই, সেখানে জি-২০ সহ অনেক আন্তর্জাতিক বৈঠক ও ফাংশন হবে৷ সব-ই শান্তির ওপর৷ সেখানে থাকবে এই স্ট্যাচু৷ আর সেই স্থানের চারপাশে জলের ক্যানেল দিয়ে ঘেরা থাকবে৷ ক্যানেলের মধ্য দিয়ে নৌকা করে সবাইকে আসতে হবে এই স্ট্যাচু দেখতে৷
যেটা পৃথিবীর প্রথম ও শেষ আশ্চর্য হিসেবে মর্যাদা পাবে৷ কারণ, সব আশ্চর্যের চেয়ে সেরা হল পৃথিবী৷ যা থেকে পৃথিবীর ওপর সব বিষ্ময়ের কাহিনি ও কৃতিত্ব তৈরি৷
আমি কোনো ব্যক্তির কৃতিত্বকে সাধারণভাবে ভাবছি না, তাঁরা অসাধারণ, যাঁরা অসাধারণ সব কাজ করেন, মানুষ চমকে যায়৷
কিন্তু আমি বলছি, আমাদের যিনি তৈরি করেছেন, আমাদের সবরকমের বাঁচবার জন্য ও কৃতিত্ব দেখানোর জন্য জিনিসপত্র সরবরাহ করেন কোনো লেনদেনের চুক্তি না করে, তিনিই তো আমাদের কাছে সব চেয়ে ভালোবাসার প্রতীক ও বিষ্ময়ের৷ কারণ, কী এক অজানা নিয়মে সব ঘটে যায়৷ আমাদের আসা, আর জীবনের শেষ পর্যন্ত সব কাহিনি৷
আমি এই জন্য ভেবেছি, এখানে সব ধর্মের মানুষ ও ধর্ম গুরুগণ আসবেন, ফলে তখন তাঁরা সকলে এক পৃথিবীবাসী হিসেবে সকলে সকলের ঘনিষ্ঠতা লাভ করবেন, আর ধর্ম নিয়ে কারোর ভিতর কোনো ভুল ভাবনা থাকলে সেটা উড়ে যাবে৷
আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বমাতার মূর্তি এই ভাবেই খুব সহজে সমস্যা সমাধান করতে পারে৷
কারণ, তিনিই শক্তি, তিনিই শান্তি, তাঁকে ভালোবাসলেই সব অসম্ভবের সমাধান হবে আমাদের জীবনে৷